
মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে এসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে দেশটির দূতাবাসগুলো। আঞ্চলিক সংঘাত, ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমায় বিধিনিষেধ এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কতার আওতায় রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও ইসরায়েল।
বিবৃতিতে এসব দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

মার্কিন মিশনগুলোর বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো বিদেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অতীতে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার কারণে প্রাণহানি ও ভ্রমণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলবে—এমন ধারণা থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা বা বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই এডেন এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য পেতে মার্কিন নাগরিকদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ (স্টেপ)-এ নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকেরা জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধাও পান।
সতর্কতার অংশ হিসেবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং মুঠোফোন সচল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাস ও দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।


