
সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে খাগড়াছড়িতে টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার সকালে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান তাঁরা। এ সময় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দুই আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর প্রভাবে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বক্তারা আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে পর্যটকদের বুকিং ছিল। কিন্তু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকেরা সেখানে যেতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত রোববার জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ১৪ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
পর্যটনের জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার উত্তরাংশে ভারতের মিজোরাম সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি জনপদ সাজেক। কাসালং পাহাড়শ্রেণির সবুজ পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্যের কারণে জায়গাটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাহাড় সাজেকের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
একসময় দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত ছিল সীমিত। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ার পর ২০১০-এর দশকে এ অঞ্চলে পর্যটনের বিকাশ দ্রুত বাড়তে থাকে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে গড়ে ওঠে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি ও আশপাশের এলাকার পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পাহাড়ে সহিংসতার পর সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ওই বছরের নভেম্বরে আবার পর্যটকদের জন্য গন্তব্যটি খুলে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হলে ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত রবিবার জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ১৪ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এর প্রতিবাদেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



