
একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য অভিজ্ঞতা, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, লাল কাঁকড়ার বিচরণ আর লেম্বুর বনের সবুজ প্রকৃতি—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য নিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দেয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। সাগরকন্যা খ্যাত এই সৈকতকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজন করা হচ্ছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল’। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর, দুই দিনব্যাপী এ উৎসব ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি।
কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে উৎসবের মঞ্চ। পর্যটকদের বিনোদন ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সমুদ্রসৈকতে থাকছে নানা আয়োজন। বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব ও পিঠা উৎসবের পাশাপাশি আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, ফ্যাশন শো ও কমেডি পরিবেশনা। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য থাকছে চর বিজয় ভ্রমণের সুযোগ।
শুধু সমুদ্র আর সৈকতের সৌন্দর্য নয়, কুয়াকাটার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরবে এই আয়োজন। রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনধারা, ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির এবং স্থানীয় সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে পর্যটকেরা পাবেন ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিরতির পর এই কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। বাড়বে পর্যটকদের আগ্রহ, জমে উঠবে স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য, সমুদ্রের রোমাঞ্চ আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে দুই দিনের এই আয়োজন কুয়াকাটাকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।


