
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন কার্যক্রম শুরুর খবরে আনন্দে মেতেছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বন্ধ থাকায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন এই ঘোষণায় তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে পর্যটন মৌসুম। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটকদের জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় রেখে দ্বীপটি পরিচালনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটননির্ভর এই দ্বীপের মানুষের জীবিকার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে পর্যটন ব্যবসা। পর্যটকদের আনাগোনায় সচল থাকে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, নৌযানসহ বিভিন্ন সেবামূলক ব্যবসা। পাশাপাশি পর্যটকদের ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট-বড় ব্যবসার মাধ্যমেও আয় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায়।

দীর্ঘদিন পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হয়েছে। হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ ফাঁকা পড়ে থাকা, পর্যটকদের জন্য নৌযান পরিচালনা বন্ধ থাকা এবং খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায় ক্রেতা কমে যাওয়ায় সংকুচিত হয়ে পড়ে আয়ের সুযোগ। অনেকের জন্য সংসার চালানোও কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন চালুর ঘোষণাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন মৌসুম শুরুর খবরে তাই শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যেই নয়, আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে দ্বীপে আনন্দ মিছিল বের করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের আশা, পর্যটকদের আগমনে আবারও জমে উঠবে দ্বীপের বাজার, বাড়বে হোটেল-রেস্তোরাঁর ব্যস্ততা। পর্যটকদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য বিক্রি ও পরিবহনসেবা থেকে আয় করার সুযোগও তৈরি হবে। এতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে দ্বীপের অর্থনীতিতে।
তবে পর্যটন কার্যক্রম চালুর সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত সেন্টমার্টিনের পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ যেন ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দ্বীপের পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।
দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, পর্যটন কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে সেন্টমার্টিনে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সচল হবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পর্যটন ও প্রকৃতি—দুটিই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনের দুয়ার খুলতে যাওয়ায় এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন পর্যটন মৌসুম শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাবে না, বরং দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায়ও নিয়ে আসবে স্বস্তি ও সম্ভাবনা।


