
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য খাগড়াছড়ি–সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধ ও সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আজ বুধবার রাতের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বুধবার সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলংবাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পূজা শেষ হওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হলে ওই দিন বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তখন কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

এর প্রতিবাদে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। তবে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ফের অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা জানান, সাজেকের বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পর্যটন এলাকা থেকে তাদের সম্পূর্ণ অপসারণ জরুরি। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
তবে অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি।
এদিকে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যটন সড়কসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।


