
তিন দফা দাবিতে রাঙামাটির সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে তৃতীয় দফায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে সাজেক থেকে ফিরতে গিয়ে উজো বাজার এলাকায় আটকা পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক। তাদের ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা অবস্থান নেওয়ায় বহরটি আটকে পড়ে। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, সাজেকের মাছালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন এবং হত্যাসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।


সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। তবে তিন দফা দাবির বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আটকে পড়া পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাঁরা সড়কে অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের চলে যাওয়ার জন্যও সময় দেওয়া হয়েছিল। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে।
তবে অবরোধকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, এসব অভিযোগ ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ চালিয়ে আসছেন। জনসংহতি সমিতি পার্বত্য সমস্যার সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। তাই সাজেকসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়ির বহর উজো বাজার এলাকায় পৌঁছেছে। অবরোধ চললেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাঘাইছড়ি সার্কেল) মোজাম্মেল হক বলেন, পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। বিরতি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


