
সকালে ফ্লাইট চালু, রাতেই আবার স্থগিত। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দাম্মাম রুটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদগামী ফ্লাইটের স্থগিতাদেশও বাড়ানো হয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর রুটটিতে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার রাতের হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা করে সংস্থাটি। রাত সাড়ে ৯টায় পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দাম্মাম রুটের ফ্লাইট ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বড় বিবেচনা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনায় এর আগেও দুই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছিল বিমান। প্রথমে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতির কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়। এরপর দাম্মাম রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন হামলার ঘটনায় আবারও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে।

ঘন ঘন সূচি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই আপাতত ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বিমানকে। তবে ফ্লাইট চালু বা স্থগিতের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সময়মতো তথ্য জানানো এবং বিকল্প ভ্রমণের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিকল্প রুটে ভরসা জেদ্দা-মদিনা
দাম্মাম ও রিয়াদ রুট বন্ধ থাকলেও ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট চালু রাখছে বিমান। জরুরি প্রয়োজনে এসব বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। তবে তা নির্ভর করবে আসন খালি থাকার ওপর।
এ অবস্থায় যাঁদের দাম্মাম বা রিয়াদ যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, নির্ধারিত সময়সূচি থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।
বিমান জানিয়েছে, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। ফলে আপাতত সৌদি আরবের পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে দুই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়টি।


