
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিজ্ঞপ্তিতে এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশটিতে যাতায়াত এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

৮২ ফ্লাইটে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী

বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৮২টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী। তাঁদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এসব ফ্লাইটের কিছু বাতিল করা হয়েছে, আর কিছু ফ্লাইটের চলাচল স্থগিত রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর এই হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারওয়েজের যাত্রীরা অন্তর্ভুক্ত নন।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রভাবিত ৮২টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ৩২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫০টি। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, সালাম এয়ারের চারটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত এক বাংলাদেশির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এসব হামলার পর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা বাড়তে থাকে।


