যদি প্রশ্ন করা যায় মুম্বাইয়ের যে কোনো ট্যুর গাইডের কাছে, বিদেশি ট্যুরিস্টরা কি মুম্বাইয়ের স্ট্রিট ফুড পাওভাজি ফছন্দ করে , জবাব মিলবে হ্যাঁ, একদম করে! মুম্বাই গেলে ট্যুরিস্টরা তাজমহল, গেটওয়ে দেখার পাশাপাশি “পাও ভাজি না খেয়ে ফিরে আসা যায় না” – এটাই এখন ট্রেন্ড। প্রচলিত কথাটা হচ্ছে “মুম্বাইয়ের পাও ভাজি – প্লেটে গোটা শহর”মুম্বাই মানেই লোকাল ট্রেনের ভিড়, সমুদ্রের হাওয়া আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাও ভাজির খুন্তির টুংটাং শব্দ। এই শহরে এসে যারা পাও ভাজি খায়নি, তারা যেন মুম্বাই-ই দেখেনি।

স্ট্রিট ফুড থেকে আইকন
১৯৬০ এর দশকে কাপড় কলের শ্রমিকদের তাড়াতাড়ি পেট ভরার খাবার হিসেবে জন্ম পাও ভাজির। আজ সেটাই মুম্বাইয়ের সবচেয়ে বড় ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন। বিদেশি ট্যুরিস্ট থেকে বলিউড সেলিব্রিটি, সবারই ফেভারিট লিস্টে আছে।
জুহু বিচ, গিরগাঁও চৌপাটি, মহালক্ষ্মীর সরদার পাও ভাজি – এই ৩টা নাম শুনলেই ফুড-লাভাররা ব্যাগ গোছায়। রাত ১১টা পর্যন্ত লাইন লেগে থাকে। কারণ? গরম গরম মাখন দিয়ে সেঁকা পাও, ঝাঁঝালো ভাজি, আর উপরে পেঁয়াজ-লেবু-ধনেপাতার কম্বো। এক কামড়েই বোঝা যায় কেন একে “মুম্বাইয়ের আত্মা” বলা হয়।
ট্যুরিস্টরা কেন পাগল?
১. সাশ্রয়ী ও স্মৃতি: ১২০-২০০ টাকায় পেটও ভরে, ইনস্টার জন্যও দারুণ ছবি হয়।
২. অভিজ্ঞতা: ফুটপাতের দোকানে দাঁড়িয়ে খাওয়া, তাওয়ার গরম আর দোকানদারের “আরেকটা পাও লাগবে?” – এটাই আসল মুম্বাই এক্সপেরিয়েন্স।
৩. ভ্যারাইটি: চিজ পাও ভাজি, কোলাপুরি পাও ভাজি, জৈন পাও ভাজি – ট্যুরিস্টরা সবগুলো ট্রাই করতে চায়।
দিল্লির এক ট্যুরিস্ট বলছিলেন, “গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া ১ ঘণ্টা দেখেছি। আর সরদারের পাও ভাজি ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে খেয়েছি। কিন্তু পাও ভাজির স্বাদটা বেশি মনে থাকবে।”

শেষ কথা শেষ হবে না !
মুম্বাই ট্যুরিজমের ব্রোশিউরে পাও ভাজির ছবি না থাকলেও, যারা ঘুরে যায় তাদের গল্পে এটা মাস্ট। কারণ পাও ভাজি শুধু খাবার না, এটা মুম্বাইয়ের গতি, মানুষ আর ভালোবাসার স্বাদ।
আপনি মুম্বাই গেলে কোন দোকানের পাও ভাজি আগে ট্রাই করবেন? জুহুর ক্লাসিক, নাকি সরদারের লিজেন্ডারি?

