
হোটেলের দরজা খুলতেই হাসিমুখে এগিয়ে আসবেন একজন কর্মী—‘স্বাগতম, স্যার। আপনার কক্ষ প্রস্তুত।’ এই দৃশ্য বহুদিন ধরেই হোটেল-অভিজ্ঞতার পরিচিত অংশ। কিন্তু ভবিষ্যতের কোনো এক হোটেলে হয়তো সেই পরিচিত কণ্ঠের বদলে শোনা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বাগতবার্তা। কাউন্টারে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না, কাগজপত্রের ঝামেলা থাকবে না; মোবাইল ফোনেই হয়ে যাবে নিবন্ধন, আর দরজার সামনে পৌঁছাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে কক্ষের দরজা।
প্রশ্নটা তাই এখন আর কল্পনার নয়, আগামী দিনের হোটেলে অতিথিকে স্বাগত জানাবে মানুষ, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?
আগাম নিবন্ধন থেকে শুরু করে কক্ষ নির্বাচন, খাবার অর্ডার কিংবা কোনো সেবার অনুরোধ অনেক কিছুই এখন মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব। ফলে অতিথিকে দীর্ঘ সময় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
কিছু হোটেলে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী অতিথির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। আশপাশের রেস্তোরাঁ কোথায়, কোন সময়ে নাশতা দেওয়া হয়, সুইমিংপুল কখন খোলা থাকে কিংবা কাছাকাছি কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়—এসব তথ্য মুহূর্তেই জানিয়ে দিতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর সহকারী।
অর্থাৎ, অতিথির প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় একজন কর্মীকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এমন ধারণাও বদলে যাচ্ছে।



এশিয়াতেই হোটেলে ব্যবহার হচ্ছে এআই
কলকাতার সল্টলেকের একটি রেস্তোরাঁয় সম্প্রতি ‘উমা’ নামের রোবট অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি টেবিলে গিয়ে খাবারও পরিবেশন করছে। পুজোর সময়ে রোবটটির উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে বেশ আগ্রহ।
এর আগে কলকাতার লেক মলের ‘সিপ অ্যান্ড স্যান্ডউইচ’-এও খাবার টেবিলে পৌঁছে দেওয়ার কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্ডার প্রস্তুত হলে রোবট ট্রেতে খাবার নিয়ে নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছে দিত।
ভারতের আরও কিছু জায়গাতেও এমন উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে মুরথালের একটি ধাবায় রোবট ওয়েটার খাবার নিয়ে সরাসরি গ্রাহকের টেবিলে পৌঁছে দেওয়ায় সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এদিকে চীনে ২০২৭ সালে পুরোপুরি রোবটনির্ভর একটি হোটেল চালুর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। সেখানে অতিথির নিবন্ধন, রুম সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা এমনকি নিরাপত্তার কাজেও রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

মানুষ করবে আতিথেয়তা, প্রযুক্তি সামলাবে কাজ
সম্ভবত ভবিষ্যতের হোটেলে সবচেয়ে কার্যকর মডেল হবে মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয়।
নিবন্ধন, বিল পরিশোধ, কক্ষের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, খাবারের অর্ডার কিংবা রুটিন কাজগুলো সামলাতে পারে প্রযুক্তি। আর কর্মীরা বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন এমন কাজে, যেখানে প্রয়োজন মানবিকতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ।
অর্থাৎ, প্রযুক্তি হয়তো হোটেলের কর্মীদের সরিয়ে দেবে না; বরং তাদের কাজকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
একজন কর্মীকে যদি সারাদিন একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে না হয়, তাহলে তিনি হয়তো অতিথির বিশেষ প্রয়োজন, অভিযোগ কিংবা অভিজ্ঞতার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।


