
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর ফলে এই দুই গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময়ে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়া-আসা করতে পারবেন।
বিমান জানায়, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাতিল ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্তে আরও নয় দিন এ দুই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকছে।
১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী
এদিকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাঝুঁকির প্রভাবে ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২৩১ জন যাত্রী।
রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৯টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১১টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের। এ সংস্থাটির ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, সালামএয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি, এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


