
Table of Contents
দেশের রেলভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন কোচ। ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচের প্রথম চালান শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ২০০টি কোচ সংগ্রহের চুক্তির আওতায় এসেছে এই প্রথম চালান।
যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কোচগুলো দেশের রেল যোগাযোগ ও পর্যটনভিত্তিক ভ্রমণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোচগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রেলবহরে যুক্ত হওয়ার পরই যাত্রীসেবায় এর বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে।

বিভিন্ন শ্রেণির কোচ, থাকছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সুবিধা

নতুন চালানে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, দুটি এসি স্লিপার কোচ এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। অর্থাৎ, সাধারণ আসন থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও শোয়ার সুবিধাসম্পন্ন কোচ—বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাই থাকছে এই চালানে। পাওয়ার কারে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরার পাশাপাশি যাত্রীদের মালামাল বহনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
পর্যটন ভ্রমণে কী প্রভাব পড়বে?
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথে ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ট্রেনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য বাড়লে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পর্যটকদের যাতায়াত আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেলসেবার সক্ষমতা বাড়লে এ অঞ্চলের পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ উন্নত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে নতুন কোচগুলো কোন কোন ট্রেনে যুক্ত হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তাই পর্যটন রুটে সরাসরি কী পরিবর্তন আসবে, সেটি নির্ভর করছে রেলওয়ের পরবর্তী পরিকল্পনার ওপর।
২০০ কোচ সংগ্রহের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারতের রাইটস লিমিটেডের সঙ্গে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের চুক্তি রয়েছে। প্রথম চালানে এসেছে ১৮টি; বাকি ১৮২টি কোচ পর্যায়ক্রমে দেশে আসার কথা। দর্শনায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোচগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলো রেলবহরে যুক্ত করা হবে।
নতুন কোচের এই যাত্রা তাই কেবল রেলবহর সম্প্রসারণের খবর নয়; এটি যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় রেলভ্রমণের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন হবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা।


