
কুয়াকাটার নীল জলরাশি, সমুদ্রের ঢেউ আর দিগন্তজোড়া সৈকত—পর্যটনের এমন আবহেই এবার ভ্রমণের নতুন এক পাঠ নিলেন তরুণেরা। তবে হাতে ক্যামেরা কিংবা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে নয়, লুডুর ছকে ছক্কা আর গুটির চালেই দেশের নানা পর্যটনসম্পদের সঙ্গে পরিচিত হলেন তারা। খেলার আনন্দে দেশের দর্শনীয় স্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানার এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘ট্যুরিজম লুডু প্রতিযোগিতা’।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের ৪০ জন শিক্ষার্থী। ‘পর্যটনে তারুণ্যের উৎসব’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কার্যক্রমে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তরুণদের কাছে দেশের পর্যটনসম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পর্যটনের প্রসার এবং দেশের পর্যটনসম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় কুয়াকাটার পর্যটন হলিডে হোমস ও ইয়ুথ ইন-এর সম্মেলন কক্ষে বসে এ প্রতিযোগিতার আসর। ছক্কা ফেলে গুটি এগিয়ে নেওয়ার উত্তেজনার সঙ্গে যোগ হয় দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে জানার আগ্রহ। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যটন হয়ে ওঠে নিছক ঘোরাঘুরির বিষয় নয়, বরং দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানার এক আনন্দময় সুযোগ।

প্রতিযোগিতায় সেরা বিবেচিত হন কাজী রুবায়েত, মো. মেহেদী, চৈতী বিশ্বাস, মো. নাবিল ও নুসরাত। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে তরুণদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্ম এসব পর্যটনসম্পদ সম্পর্কে যত বেশি জানবে, দেশের ভেতরে ভ্রমণের প্রতি তাদের আগ্রহও তত বাড়বে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে পর্যটনশিল্প অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়েও সচেতনতা বাড়ায়।
কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম শাহিন বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ তৈরির পাশাপাশি পর্যটনসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রচারে তরুণদের উৎসাহিত করবে।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রচারের পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত করতে পারলে দেশীয় পর্যটনের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) পরিচালক নেছার উদ্দিন হাওলাদারসহ স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক ব্যক্তিরা।
ভ্রমণ মানেই শুধু দূরের কোনো গন্তব্যে ছুটে যাওয়া নয়; কখনো কখনো একটি খেলার ছকেও খুলে যেতে পারে নতুন জায়গা আবিষ্কারের জানালা। লুডুর গুটির মতোই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পর্যটনসম্পদকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলার এ উদ্যোগের মূল বার্তাও তাই—দেশকে জানতে হলে, তার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসতে হলে, ঘুরে দেখতে হবে নিজের দেশকেও।


