
ট্রেনের কেবিনে দরজা লক করার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু কেবিনের বাইরে বের হলে মালামাল নিরাপদ থাকবে তো? বাংলাদেশে ট্রেন ভ্রমণের সময় এমন প্রশ্নই মাথায় আসে স্কটিশ ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিউ আব্রডের। কেবিনে নিজের জিনিসপত্র রেখে টয়লেটে যাওয়া নিয়েও শুরুতে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ট্রেনে পুলিশের উপস্থিতি এবং তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকটাই নিশ্চিন্ত হন এই ভ্রমণব্লগার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে স্থানীয় জীবনযাপন, খাবার, গণপরিবহন ও সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হিউ আব্রড। বাংলাদেশ সফরেও তার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দেশের রেলভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাংলাদেশি ট্রেনের কেবিন, খাবার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
কেবিনে অবস্থানকালে দরজা ভেতর থেকে লক করা গেলেও বাইরে গেলে সেটি তালাবদ্ধ করার সুযোগ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন হিউ। তিনি বলেন, কেবিনে জিনিসপত্র রেখে টয়লেট বা অন্য কোথাও গেলে যে কেউ ভেতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তার মনে তৈরি হয়।

তবে এই উদ্বেগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যাত্রাপথে ট্রেনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতি দেখতে পান তিনি। পুলিশ সদস্যরা ট্রেনে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত টহল দিচ্ছেন—বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন হিউ।

নিজের কেবিনে মালামাল রেখে বাইরে যাওয়া নিরাপদ কি না, সরাসরি পুলিশ সদস্যদের কাছেই জানতে চান তিনি। জবাবে তারা তাকে নিরাপদ থাকার আশ্বাস দেন।
এরপরই অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসে স্কটিশ এই ভ্রমণব্লগারের মুখে। পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জানান, এখন কেবিনে জিনিসপত্র রেখে বাইরে যেতে আর তেমন চিন্তা হচ্ছে না। এরপর বাংলাদেশের ট্রেনযাত্রা উপভোগের প্রস্তুতি নেন তিনি।
যাত্রাপথে বাংলাদেশের আরেকটি পরিচিত দৃশ্যও উঠে আসে তার ভিডিওতে। ট্রেনের এক বিক্রেতার কাছ থেকে মধু কেনেন হিউ। পরে আরও কী কী খাবার পাওয়া যায়, সেটিও জানতে চান তিনি।
সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা নিয়ে শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও বাংলাদেশি ট্রেনে পুলিশের উপস্থিতি ও আশ্বাস তার সেই ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।


