
ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ এ মাসের শুরুতেই বোটোয়া ( BOTOA) তাদের প্রথম বড় আয়োজন বাংলাদেশ ট্রাভেলমার্ট সফলভাবে শেষ করেছে, এ মাসেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস । বটোয়ার সাধারণ সম্পাদক এবং একজন ট্যুর অপারেটর প্রফেশনাল হিসেবে কিভাবে দেখছেন বাংলাদেশে ট্যুরিজমের সম্ভাবনাকে ?
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ আমরা জানি এবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য—“Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism”—সময়ের পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। পর্যটন এখন আর শুধু একটি গন্তব্যে যাওয়া, একটি হোটেলে থাকা কিংবা কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার নাম নয়। প্রযুক্তি, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, connectivity, sustainability এবং মানুষের অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়ে পর্যটন একটি বিশাল বৈশ্বিক ecosystem-এ পরিণত হয়েছে।



আজকের পর্যটক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ডিজিটাল জগতে একটি destination-এর সঙ্গে পরিচিত হন। আগামী দিনের পর্যটক হয়তো একজন ট্রাভেল এজেন্টের কাছে যাওয়ার আগেই AI-এর কাছে জানতে চাইবেন—কোথায় যাবেন, কত খরচ হবে, কী দেখবেন, কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে পুরো ভ্রমণটি সাজাবেন।
ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ যে প্রেক্ষিত আপনি বর্ণনা করলেন তাতে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তা হচ্ছে এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের পর্যটন কতটা সম্ভাবনাময়?
শরিফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ একবাক্যে বললে বলতে হবে , সম্ভাবনা আছে, এখন প্রয়োজন রূপান্তরের। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, হাওর, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় খাবার এবং মানুষের স্বাভাবিক আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি অনন্য ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন হওয়ার মতো সম্পদ ধারণ করে।কিন্তু সম্ভাবনা এবং সাফল্য এক জিনিস নয়। একটি দেশের পর্যটন সম্ভাবনা তখনই অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়, যখন সেই দেশ তার গন্তব্যকে উন্নত করে, সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করে, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকরভাবে বিপণন করে এবং পর্যটকের জন্য একটি seamless travel experience নিশ্চিত করতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে ( GDP) পর্যটনের অবদান ছিল আনুমানিক ২.৯ শতাংশ । কর্মসংস্থানে অবদান ৪.২ শতাংশ। একই সময়ে Travel & Tourism Development Index-এ ১১৯টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯তম। এই পরিসংখ্যানকে কেবল সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটি আমাদের সামনে একটি বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। আমাদের পর্যটনের সম্ভাবনা যত বড়, উন্নয়নের সুযোগও তত বড়।

ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ কিন্তু শুধু সুন্দর গন্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটক আসে না, তার জন্য আরো অনেক উপাদান দরকার,সেসব কি নিশ্চিত করা যাচ্ছে ?
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ আমাদের একটি ধারণা পরিবর্তন করতে হবে যে—বাংলাদেশে সুন্দর জায়গা আছে, তাই বিদেশি পর্যটক এমনিতেই চলে আসবেন।আসলে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজার এতটা সহজ নয়।থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ভারত, তুরস্ক, দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন destination প্রতিনিয়ত নিজেদের পর্যটন পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার করছে। তারা শুধু Destination তৈরি করছে না , Destination-এর একটি Brand Identity তৈরি করছে।
তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এখন দরকার হচ্ছে গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ( Destination Development ) , বিশ্ব পর্যটন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা (Global Marketing) , যোগাযোগ সক্ষমতা বা প্রচার বাড়ানো ( Connectivity ) এবং ট্যুরিস্ট সুবিধার ব্যাপক বিস্ততি ঘটানো (Visitor Facilitation ) এই পাঁচটি বিষয়কে একই ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা।

ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ তাহলে বলতেই হয় বিদেশি পর্যটককে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানোর আগে, বাংলাদেশকে তার কাছে দৃশ্যমান করতে হবে।
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ এই জায়গাটিতেই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশকে বিশ্বের বাজারে নিয়ে যেতে হবে । বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক বাড়াতে হলে বাংলাদেশের ভেতরে বসে শুধু বাংলাদেশের সৌন্দর্যের প্রচারণা করলেই হবে না। যে দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে পর্যটক আসতে পারে, সেই দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশকে নিয়মিত, পরিকল্পিত এবং পেশাদারভাবে প্রচার করতে হবে।আমাদের টার্গেট মাকেট ঠিক করতে হবে সবার আগে।
দেখতে হবে কোন দেশ থেকে বর্তমানে পর্যটক আসছেন? কোন দেশের মানুষের বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক যোগাযোগ রয়েছে? দেখতে হবে কোথায় বিজনেস ট্রাভেলের সম্ভাবনা বেশি? কোথায় অবকাশ পর্যটনের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশে মাইস ট্যুরিজমের ( MICE tourism ) সম্ভাবনা আছে কি না? কোথায় ঐতিহ্য (heritage) প্রকৃতি (nature ) ধর্ম ( religious ) বা Adventure tourism-এর চাহিদা রয়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে। এইসব তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা কৌশল (Market strategy ) তৈরি করতে হবে।

ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ বিষয়টি যদি আরো একটু ব্যাখ্যা করে বলেন
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ আসলে একটি মাত্র campaign দিয়ে পুরো পৃথিবীকে কাভার করা যাবে না।
ভারতের জন্য এক ধরনের Bangladesh tourism story, চীনের জন্য ভিন্ন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভিন্ন, ইউরোপের জন্য ভিন্ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য ভিন্ন Positioning প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন মেলায় ( Tourism fairs ) অংশগ্রহণ নিতে হবে । নানারকম রোড শো (destination roadshow ) এবং ফেমট্রিপের আয়োজন করতে হবে । , আন্তর্জাতিক Airline ও Tourism partners-এর সঙ্গে যৌথভাবে Campaign করতে হবে এবং Digital platforms-এ দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঘোষিত দায়িত্ব ও মিশনের মধ্যেও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনের বিষয়টি রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী, ধারাবাহিক এবং ফলাফলভিত্তিক International marketing strategy-তে রূপান্তর করা।
ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ বাংলাদেশের পর্যটনের পন্যকে বিশ্ববাজারে বিক্রি করতে হলে আমাদের শুধু গন্তব্য দেখালে হবে না; একটি গল্প, একটি অভিজ্ঞতা এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। আপনি কি এ বিষয়ে একমত ?
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ আসলে Tourism Marketing হতে হবে “Always On” । যেমন আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড একদিনের প্রচার-প্রচারনা দিয়ে তৈরি হয় না। একটি পর্যটন গন্তব্য ( Tourism Destination ) তৈরি করতে , এর পরিচিতি মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক মার্কেটিং প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একটি সার্বক্ষণিক বাজার-বন্ধব নীতিকৌশল ( Always-On Tourism Marketing Strategy ) দরকার, যেখানে সারা বছর নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দ্যেশ্য নিয়ে কাজ হতে হবে। আমাদের মার্কেটিংয়ের ভিত্তি হবে তথ্যভিত্তিক । সঠিক তথ্য জানতে হবে যে কোন দেশ থেকে কতজন পর্যটক আসছেন? তারা কেন আসছেন? কতদিন থাকছেন? কোথায় যাচ্ছেন? কত ব্যয় করছেন? তারা দ্বিতীয়বারের মত আসছেন কি না ? আর যেটা গবেসণা করে জানা দরকার সেটা হচ্ছে কোন বাধার কারণে সম্ভাব্য পর্যটক বাংলাদেশে আসছেন না?
যা উল্লেখ করলাম সেই তথ্যগুলো ছাড়া আধুনিক tourism marketing কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। আর এখনতো
AI পর্যটনের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে ।কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা ( Artificial Intelligence ) পর্যটনের ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। একজন পর্যটক তার বাজেট, সময়, পছন্দ ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য জানালে এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি ভ্রমনসূচী ( Itinerary) তৈরি করতে পারে। একইভাবে multilingual customer service, destination recommendation, demand forecasting, personalized marketing এবং ভ্রমন পরিকল্পনায় AI-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।আমি মনে করি বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ।
আমাদের গুরুত্বপূর্ণ tourism destinations-এর জন্য multilingual digital content, high-quality visual storytelling, maps, transportation information, accommodation information, historical background এবং visitor guidelines তৈরি করতে হবে—যাতে একজন আন্তর্জাতিক পর্যটক তার নিজের ভাষায় সহজেই বাংলাদেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারেন।
তবে প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি data privacy, cybersecurity, misinformation এবং responsible use of AI-এর বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আমাদের লক্ষ্য হতে হবে যে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা পেশাজীবীদের হটিয়ে না দিয়ে বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে । “AI replacing people” নয়; বরং “AI empowering people.” কারণ পর্যটনের প্রাণ প্রযুক্তি নয়—মানুষ।
ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ আমরা দেখি সব সময় পর্যটন খাতে ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড নিয়ে একটা বিতর্ক চলে। যদি একটু খোলাসা করেন
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ Inbound ও Outbound—দুটিকেই দেখতে হবে একই ecosystem হিসেবে
বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় শুধু inbound tourism-এর দিকে নজর দিই। বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে কতজন আসছেন—এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বাংলাদেশের outbound tourism-ও একটি বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য, family travel এবং leisure-এর জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে airlines, hotels, tour operators, travel agencies, visa services, insurance, financial services এবং অসংখ্য কর্মসংস্থান। তাই outbound tourism-কে কেবল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে পুরো travel economy-কে বোঝা হবে না।
বরং একটি শক্তিশালী outbound tourism industry আন্তর্জাতিক connectivity বাড়াতে, নতুন bilateral tourism relationship তৈরি করতে এবং বাংলাদেশের tourism professionals-দের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে পারে। Inbound ও outbound tourism—দুটিকে একই জাতীয় tourism ecosystem-এর অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।সমস্যাগুলো স্বীকার করেই সমাধানের পথে যেতে হবে
ট্রাভেলবাংলা জার্ণাল ঃ এই মুহুতে বাংলাদেশের পর্যটনের সামনে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো কি কি ?
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ বিমান যোগাযোগ ও ভাড়া ( Air connectivity ও airfare ) ভিসা সুবিধা, পর্যটন অবকাঠামো, ট্যুরস্ট স্পট বা গন্তব্য সুনিদিষ্ট করা (destination management ) এই খাতে দক্ষ জনবল ( skilled manpower ) আন্তর্জাতিক বিপনন ( international marketing ) নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা Digital information এবং policy coordination—এসব জায়গায় আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।একই সঙ্গে tourism businesses-এর জন্য একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও জরুরি।
বলা যায় ভিসা প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, destination তত accessible হবে। Air connectivity যত বাড়বে, international tourism তত সহজ হবে। Destination infrastructure যত উন্নত হবে, পর্যটকের stay এবং experience তত ভালো হবে। আর marketing যত শক্তিশালী হবে, destination awareness তত বাড়বে।অর্থাৎ পর্যটনের প্রতিটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।সরকার ও বেসরকারি খাতকে একই যাত্রায় এগোতে হবে পর্যটন কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। সরকারের প্রয়োজন policy, infrastructure, connectivity, regulation ও destination development-এর পরিবেশ তৈরি করা।
Private sector-এর প্রয়োজন innovation, investment, product development, service quality এবং international market access তৈরি করার জন্য। এয়ারলাইন্স,হোটেল, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি , আইটি কোম্পানি,ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান , স্থানীয় কমিউনিটি এবং ট্যুরিজম সংগঠনগুলোকে একটা ইকোসিস্টেমের মধ্যে থেকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
সরকারের পরিকল্পনা এবং ব্যাক্তি বাস্তব অভিজ্ঞতা যখন একই জায়গায় মিলিত হবে, তখনই tourism development আরও দ্রুত ও বাস্তবমুখী হবে।
ট্রাভেলবাংলা জার্নাল ঃ ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ
শরিয়ফুল ইসলাম (শরীফ) ঃ কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য ট্রাভেলবাংলা জার্নালকেও ধন্যবাদ


