
দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা ছিল পাহাড়ঘেরা সাজেক ভ্যালি। কিন্তু দুই আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশে সব পর্যটক সাজেক ছেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কোলাহলের বদলে এখন সেখানে বিরাজ করছে থমথমে নীরবতা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সেখানে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ভ্রমণ পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে সাজেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলেই সাজেক ত্যাগ করেন। বাকিরাও মঙ্গলবার সকালের মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।


বর্তমানে সাজেকে দোকানদার, কিছু শ্রমিক ও রিসোর্টের কর্মচারী ছাড়া আর তেমন কেউ নেই। সোমবারই অধিকাংশ পর্যটক চলে গেছেন, মঙ্গলবার সকালেও বাকিরা এলাকা ছেড়েছেন। দুর্গাপূজার ছুটিতে যেখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার কথা, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা।

এদিকে, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাজেকের হোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হঠাৎ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় তাদের সেই প্রস্তুতি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে ছুটিকে ঘিরে আগাম বুকিং নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির নেতারা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেলের আগেই সব পর্যটক সাজেক ছেড়ে গেছেন। অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞায় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সাজেকে মোট ১৩৫টি রিসোর্ট রয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব রিসোর্টে শতভাগ আগাম বুকিং ছিল বলে দাবি করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতের ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
পর্যটকদের আনাগোনা, রিসোর্টের ব্যস্ততা আর পাহাড়ি জনপদের কর্মচাঞ্চল্যে যে সাজেক মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতির উন্নতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকছে না।


