
বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেত পাওয়ার পর ভারতের জয়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্রাঙ্কফুর্ট-নয়াদিল্লিগামী একটি ফ্লাইট।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। এতে থাকা ৩০৫ যাত্রীর সবাই নিরাপদে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সংকেতটি ভুলবশত সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, বুধবার সকালে ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, বিমান চালানোর সময় পাইলটের একজন ভুলবশত ছিনতাইসংক্রান্ত সতর্কসংকেত সক্রিয় করে ফেলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে বিমানবন্দরের একটি নির্ধারিত বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমান ও যাত্রীদের মালপত্রে তল্লাশি চালান। পরে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে নেওয়া হয়।

নিরাপত্তা তল্লাশিতে অংশ নেয় ভারতের আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), স্থানীয় পুলিশ এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীদের গন্তব্যে যাত্রা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

কী ছিল সেই সতর্ক সংকেত?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটি থেকে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ সংকেত পায়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলে ব্যবহৃত এই ট্রান্সপন্ডার কোড বিমান ছিনতাই কিংবা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি নির্দেশ করে। এ ধরনের সংকেত পাওয়ার পরই সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফ্লাইটটিকে জয়পুরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সংকেতটি কেন সক্রিয় হয়েছিল, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি বোমা হামলার হুমকির পরিবর্তে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইসংক্রান্ত সতর্কবার্তা ছিল।
অন্যদিকে, জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে সংকেতটি ভুলবশত সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে এটি নিছক কারিগরি বা মানবিক ভুল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি।


