
অক্টোবর মানেই দেশে ভ্রমণের মৌসুমের শুরু। বর্ষার শেষ আর শরতের হাত ধরে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে পাহাড়ি অঞ্চল—বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে শুরু করেন পর্যটকেরা। আর এই সময়েই পরিবহন খাতে একের পর এক বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হচ্ছে। ডিজেলের দাম বাড়ার পর বেড়েছে বাসভাড়া। এবার বাড়ল উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ-১-এর দাম। ফলে প্রশ্ন উঠছে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানভাড়াতেও কি এবার বাড়তির চাপ আসছে?
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা, যা প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট নয়, আন্তর্জাতিক রুটের জন্যও জেট এ-১-এর দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৮৮২ মার্কিন ডলার। সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১ দশমিক ০৭৭০ ডলার। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ১১১২ ডলার বা প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

জেট ফুয়েল একটি এয়ারলাইনসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন ব্যয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উড়োজাহাজ পরিচালনায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়। তবে এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি যাত্রীদের ওপর চাপানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সিদ্ধান্ত, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, অন্যান্য পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রী চাহিদার ওপর।

অর্থাৎ জেট ফুয়েলের দাম বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বিমানভাড়া বাড়বে—এমন কোনো সরাসরি সমীকরণ নেই। কিন্তু টানা দুই মাস জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালন ব্যয়ের চাপ যে বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের কতটা এয়ারলাইনগুলো নিজেরা বহন করবে আর কতটা ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সড়ক পরিবহনেও বাড়ানো হয়েছে বাসভাড়া। অর্থাৎ পর্যটন মৌসুম শুরুর সময়ই স্থল ও আকাশ—দুই পথের যাত্রীদের পরিবহন ব্যয় বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে শুরু হয় ভ্রমণের ব্যস্ত সময়। কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম, বান্দরবানসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাড়তে থাকে পর্যটকের সংখ্যা। এই সময়ে যদি বিমানভাড়াতেও বাড়তি চাপ আসে, তাহলে ভ্রমণ পরিকল্পনায় তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানির বাজারদর, ডলারের বিনিময় হার ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করেই জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর গড় মূল্য, ডলারের বিনিময় হারসহ অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে টানা প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় মাসেও বাড়ল সেই দাম। ফলে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই পরিবহন ব্যয়ের এই বাড়তি চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা যাত্রীভাড়ায় প্রতিফলিত হয় এখন সেটিই দেখার বিষয়।


