
রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পেও। সাজেকে যেতে না পারার আশঙ্কায় অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি ভ্রমণও বাতিল করছেন। এতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো, ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রায় তিন হাজার চালক ও সহকারী।
বুধবার খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা, রিছাং ঝরনা ও মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে পর্যটকদের তেমন আনাগোনা দেখা যায়নি। পর্যটন মৌসুমে যেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান পরিবেশ।

খাগড়াছড়ি-সাজেক রুটে পর্যটক পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু চালক। এ রুটে যাওয়া-আসার ভাড়া সাত হাজার টাকা। মাসে অন্তত ১০টি ট্রিপ পেলে একজন চালকের আয় হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু সাত দিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় আয়ও বন্ধ। লোকাল ট্রিপ চালিয়েও জ্বালানি খরচ তুলতে পারছেন না অনেকে।

একই অবস্থা অটোরিকশা ও পিকআপচালকদেরও। পর্যটন মৌসুমে বাড়তি আয়ের আশায় অনেকে ঋণ নিয়ে কিস্তিতে গাড়ি কিনেছেন। এখন গাড়ির চাকা না ঘোরায় তাঁদের আয় নেই, অথচ নিয়মিত শোধ করতে হচ্ছে ঋণের কিস্তি। পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁদের জীবিকা।

পরিবহনসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ পিকআপ সাজেকে যাতায়াত করে। খাগড়াছড়ির সাজেক কাউন্টার থেকেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ ছেড়ে যেত। অবরোধের কারণে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চালক ও সহকারীদের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পরিবহন মালিক সমিতির দাবি, জেলায় প্রায় তিন হাজার চালক ও সহকারী বর্তমানে বেকার। তাদের জীবিকা ও পরিবারের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংকট সমাধান এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঁচ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এতে সাজেকের পাশাপাশি খাগড়াছড়ির পর্যটন ও পরিবহন খাতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।


