
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) পর্যটকদের ভ্রমণসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি খুলে দেওয়ার খবরে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে আশাবাদী দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
তবে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিত করাই এবারের মৌসুমের অন্যতম লক্ষ্য।
পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। সৈকতে রাতে উচ্চ শব্দ, আলো ও বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ এবং মোটরসাইকেল চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পলিথিন বহন না করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কারণে সেন্টমার্টিন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। তবে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিবেশদূষণ দ্বীপটির নাজুক প্রতিবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। তাই পর্যটন চালুর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

