
বিশ্বমঞ্চে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে তুলে ধরতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে অনুষ্ঠিত বিচ ম্যারাথনে খাবার পানি, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ঘটনায় অংশগ্রহণকারী ও পর্যটকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।
ভোর ৫টায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে বিচ ম্যারাথন শুরু হয়। প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে গঙ্গামতির চরের সূর্যোদয় পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয় দৌড়। সেখানে সূর্যোদয় উপভোগ ও বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণের আয়োজন থাকলেও ম্যারাথন চলাকালে প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবার ঘাটতির অভিযোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

তাদের অভিযোগ, পুরো ম্যারাথন রুটে কোথাও খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা কিংবা পথনির্দেশনার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকও দেখা যায়নি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো মেডিকেল টিম কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ দৌড়াতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। তাদের প্রশ্ন, পর্যটনকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার মতো বড় আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা কেন নিশ্চিত করা হয়নি?
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও ইভেন্ট কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কার্নিভালের অন্যান্য আয়োজন চলার কথা রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে চর বিজয়ে ভলিবল, সেলিব্রেটি বিচ ক্রিকেট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা, ফ্যাশন শো এবং কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন রাখা হয়েছে।
তবে উৎসবের শুরুতেই বিচ ম্যারাথন ঘিরে ওঠা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ কুয়াকাটার পর্যটন ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পর্যটন বিকাশের আয়োজন শুধু বিনোদননির্ভর হলে চলবে না; অংশগ্রহণকারী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।


