
দীর্ঘ ৯ বছর পর পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে উৎসবের আমেজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। সৈকতে ফুটবল প্রতিযোগিতা, বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ফুড ফেস্টিভ্যাল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত দেশের অন্যতম এই পর্যটনকেন্দ্র। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা আরও তুলে ধরা সম্ভব হবে।

পূজার ছুটিতে পর্যটকের ঢল, জমজমাট সৈকত
শুক্রবার সকালে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টের কাছে বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেলে লেম্বুর বন সৈকতে হয় ঘুড়ি উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এসময় রং রংয়ের ঘুড়িতে বর্নিল হয়ে ওঠে সৈকতের আকাশ। এছাড়া একই স্থানে শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রং-তুলির আঁচড়ে সাদা ক্যানভাসে শিশুরা ফুটিয়ে তোলে বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও ইতিহাস ঐতিহ্যের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নান্দনিক চিত্র। তাদের সৃজনশীলতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। এছাড়া সন্ধ্যা থেকে চলে পুঁথিপাঠ, রাখাইন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও সংগীতানুষ্ঠান।

দুর্গাপূজার ছুটি ও কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কক্ষসংকট দেখা দিয়েছে। সৈকতের পাশাপাশি গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি রয়েছে।


পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
কার্নিভাল উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ছিল অপরিকল্পিত; বর্তমান সরকার পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ভোরে বিচ ম্যারাথন, সূর্যোদয় উপভোগ, পিঠা উৎসব, সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, চর বিজয়ে আনন্দভ্রমণ, বিচ ভলিবল ও সেলিব্রেটি বিচ ক্রিকেট। এ ছাড়া বাউল গানের আসর, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনের আয়োজন।
আয়োজকদের আশা, এ ধরনের উৎসব কুয়াকাটার পর্যটনকে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে পর্যটকের এই বিপুল সমাগমকে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনায় রূপ দিতে উন্নত সেবার মান, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।


