
পূজার ছুটি আর দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটন কার্নিভাল—দুইয়ে মিলে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সৈকত, হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে খাবারের দোকান, বার্মিজ মার্কেট ও শুঁটকিপল্লি। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুই দিনে চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
ইতোমধ্যে কুয়াকাটার অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনেক হোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই। প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেলগুলোতেও বাড়ছে বুকিং। পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে হোটেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
কয়েক কিলোমিটার সৈকতজুড়ে পর্যটকদের সমাগম দেখা গেছে। কেউ সাগরের ঢেউয়ে গা ভাসিয়েছেন, কেউ উপভোগ করেছেন সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আবার ভোরের সূর্যোদয় দেখার পর অনেকেই ঘুরে বেড়িয়েছেন কুয়াকাটার আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে স্থানীয় বাজার, শুঁটকিপল্লি, খাবারের হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও।

কার্নিভালকে সামনে রেখে নতুন সাজে প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলো। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আবাসন ও সেবার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

দুই দিনের এ আয়োজন ঘিরে কুয়াকাটা ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে থাকছে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। চর হেয়ার, চর বিজয় ও সোনারচরসহ আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে পরিচিত করে তুলতে আয়োজন করা হচ্ছে বিচ ফুটবল, বিচ ভলিবল, সেলিব্রেটি বিচ ক্রিকেট, বিচ ম্যারাথন ও ঘুড়ি ওড়ানোর মতো ইভেন্ট। পাশাপাশি থাকবে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতানুষ্ঠান।
আয়োজকদের লক্ষ্য, শুধু কার্নিভালকেন্দ্রিক পর্যটকের সমাগম নয়, বরং কুয়াকাটা ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে এসব স্থানে পর্যটনসেবা সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে অনলাইনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। কার্নিভাল চলাকালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। টুরিস্ট পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল, নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং যানবাহন চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে।
কার্নিভাল চলাকালে নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল সীমিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ডাইভারশন এবং নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। পর্যটকদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে নির্দিষ্ট এলাকায় অটোরিকশা চলাচলের ব্যবস্থাও থাকবে। নিরাপত্তা ও যাতায়াতসংক্রান্ত নির্দেশনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে পূজার ছুটির আমেজ আর পর্যটন কার্নিভালের আয়োজন ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবের আবহ। সাগরের ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সৌন্দর্য আর নানা আয়োজনের টানে পর্যটকদের পদচারণায় আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।


