
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জার্মানির শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা লুফথানসার বিনিয়োগ চায় সরকার। বিশেষ করে দেশে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল—এমআরও সুবিধা স্থাপনে প্রতিষ্ঠানটিকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিমান যোগাযোগ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়ন এবং পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে লুফথানসা এমআরও স্থাপনে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা করতে পারে।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া কার্গো ও মেইলের ওপর থাকা ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ বা এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা চাওয়া হয়।
মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণগুলো সমাধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি রেটিং পেয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। এয়ারবাসের ডেলিভারি ২০৩০ সালের আগেই শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়ানো, পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।
সাক্ষাৎ শেষে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জার্মানির সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।


